## ভূমিকা:
"কুল মাখলুক গাহে হযরত
বালাগাল উলা বিকামালিহী,
আধাঁর ধরায় এনে আফতাব
কাশাফাদ্ দোজা বিজামালিহী,
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য,যিনি কুলজাহানের পালনকর্তা, পরম করুণাময় ও দয়ালু। অসংখ্য দরুদ ও সালাম সেই নবীর প্রতি, যিনি বিধাতার করুণা হয়ে বার-ই রবিউল আউয়াল এ ধরাধামে আত্মপ্রকাশ করেন। যাঁর জন্য আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেছেন বশীর(সুসংবাদ দাতা), নযীর (সতর্ককারী), সিরাজুম মুনীর(সমুজ্জ্বল ভাস্কর) এবং রাহমাতুল-লিল আ'লামীন (বিশ্বজনীন কল্যাণবার্তা) এর ন্যায় অভিধা সমূহ। সেই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এ পৃথিবীতে শুভাগমন করলে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দের হিল্লোল। তাঁরই পবিত্র স্মৃতিকে মর্যাদা সহকারে উদযাপন করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার নাম ঈদে মিলাদুন্নবী(দ:)। এটা এমন একটি শরীয়ত সম্মত পুণ্যময় আমল, যা কুরঅান-সুন্নাহ দ্বারা সু-প্রমানিত এবং আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। এ নিবন্ধে উল্লিখিত শিরোনামের উপর প্রাসঙ্গিক আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি|
## ঈদে মিলাদুন্নবী'র পরিচয়:
# শাব্দিক পরিচয়: 'ঈদে মিলাদুন্নবী' শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। যা তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এক. ঈদ,
দুই. মিলাদ,
তিন. নবী।
প্রথমতঃ ঈদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-খুশি, আনন্দ, উত্সব।
দ্বিতীয়তঃ মিলাদ শব্দটি ও আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-জন্মকাল, জন্মদিন।
তৃতীয়তঃ নবী শব্দটি ও আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-দূত,খবরদাতা ইত্যাদি। এখানে নবী বলতে হযরত মুহাম্মদ(দঃ) কে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবী'র অর্থ হচ্ছে- নবী করিম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র শুভাগমনের আনন্দ উত্সব।
# পারিভাষিক পরিচয়: 'আস-সিরাতুল জামিআ' মিনাল মু'জিযাতিল লামিয়া' নামক কিতাবে উল্লেখ আছে" মাওলিদুন্নবীয়ে ইবারাতুন আন বয়ানে সিফাতিহী ওয়া মু'জিযাতিহী ওয়া শামায়িলিহী মা'আ মা ইনাবিলুহু মিন তারিখে বেলাদতিহী ওয়া নাসালিহী" অর্থ;মিলাদুন্নবী বলা হয় সেই মাহফিল বা অনুষ্ঠানকে যেখানে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয় আর তা হলো- নবী করিম(দঃ) এর গুণাবলি, অলৌকিক ঘটনা, স্বভাব-চরিত্র বা আপাদমস্তকের বর্ণনা, জন্মবৃত্তান্ত এবং বংশীয় শাজরা। কেউ কেউ বলেন-ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) বলতে বুঝায়- এ পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমনে আনন্দিত হওয়া এবং এ অদ্বিতীয় নিয়ামত পাওয়ায় সত্কাজ ও ইবাদত- বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা।
"কুল মাখলুক গাহে হযরত
বালাগাল উলা বিকামালিহী,
আধাঁর ধরায় এনে আফতাব
কাশাফাদ্ দোজা বিজামালিহী,
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য,যিনি কুলজাহানের পালনকর্তা, পরম করুণাময় ও দয়ালু। অসংখ্য দরুদ ও সালাম সেই নবীর প্রতি, যিনি বিধাতার করুণা হয়ে বার-ই রবিউল আউয়াল এ ধরাধামে আত্মপ্রকাশ করেন। যাঁর জন্য আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেছেন বশীর(সুসংবাদ দাতা), নযীর (সতর্ককারী), সিরাজুম মুনীর(সমুজ্জ্বল ভাস্কর) এবং রাহমাতুল-লিল আ'লামীন (বিশ্বজনীন কল্যাণবার্তা) এর ন্যায় অভিধা সমূহ। সেই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এ পৃথিবীতে শুভাগমন করলে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দের হিল্লোল। তাঁরই পবিত্র স্মৃতিকে মর্যাদা সহকারে উদযাপন করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার নাম ঈদে মিলাদুন্নবী(দ:)। এটা এমন একটি শরীয়ত সম্মত পুণ্যময় আমল, যা কুরঅান-সুন্নাহ দ্বারা সু-প্রমানিত এবং আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। এ নিবন্ধে উল্লিখিত শিরোনামের উপর প্রাসঙ্গিক আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি|
## ঈদে মিলাদুন্নবী'র পরিচয়:
# শাব্দিক পরিচয়: 'ঈদে মিলাদুন্নবী' শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। যা তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এক. ঈদ,
দুই. মিলাদ,
তিন. নবী।
প্রথমতঃ ঈদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-খুশি, আনন্দ, উত্সব।
দ্বিতীয়তঃ মিলাদ শব্দটি ও আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-জন্মকাল, জন্মদিন।
তৃতীয়তঃ নবী শব্দটি ও আরবি। এর শাব্দিক অর্থ-দূত,খবরদাতা ইত্যাদি। এখানে নবী বলতে হযরত মুহাম্মদ(দঃ) কে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবী'র অর্থ হচ্ছে- নবী করিম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র শুভাগমনের আনন্দ উত্সব।
# পারিভাষিক পরিচয়: 'আস-সিরাতুল জামিআ' মিনাল মু'জিযাতিল লামিয়া' নামক কিতাবে উল্লেখ আছে" মাওলিদুন্নবীয়ে ইবারাতুন আন বয়ানে সিফাতিহী ওয়া মু'জিযাতিহী ওয়া শামায়িলিহী মা'আ মা ইনাবিলুহু মিন তারিখে বেলাদতিহী ওয়া নাসালিহী" অর্থ;মিলাদুন্নবী বলা হয় সেই মাহফিল বা অনুষ্ঠানকে যেখানে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয় আর তা হলো- নবী করিম(দঃ) এর গুণাবলি, অলৌকিক ঘটনা, স্বভাব-চরিত্র বা আপাদমস্তকের বর্ণনা, জন্মবৃত্তান্ত এবং বংশীয় শাজরা। কেউ কেউ বলেন-ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) বলতে বুঝায়- এ পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমনে আনন্দিত হওয়া এবং এ অদ্বিতীয় নিয়ামত পাওয়ায় সত্কাজ ও ইবাদত- বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা।
## পবিত্র কুরঅানের আলোকে ঈদে
মিলাদুন্নবী(দঃ):
পবিত্র মিলাদুন্নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) সূচনা করেছেন স্বয়ং
আল্লাহ তায়ালা। রোজে আজলে সমস্ত
আম্বিয়ায়ে কিরামকে নিয়ে আল্লাহ এই
মিলাদ আয়োজন করেছিলেন। তিনি নিজে
ছিলেন বক্তা আর সকল নবী ছিলেন
শ্রোতা। ঐ মজলিসের বিষয়বস্তু ছিল- হযরত
মুহাম্মদ(দঃ)'র বেলাদত, শান ও মান অন্যান্য
নবীগণের সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের
থেকে তাঁর উপর ঈমান অানয়ন, সাহায্য ও
সমর্থনের প্রতিশ্রুতি আদায় করা। ঐ
মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিলের অালোচনা
কুরঅান মাজীদের ৩য় পারার সূরা আলে
ইমরানের ৮১ ও ৮২ নং আয়াতে উল্লেখ
আছে। আল্লাহ বলেন-(৮১)হে প্রিয় রাসুল!
আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের কথা, যখন
আল্লাহ তায়ালা নবীগণ থেকে প্রতিশ্রুতি
নিয়েছিলেন এ কথার উপর যে, যখন আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দিয়ে
দুনিয়ায় প্রেরণ করবো; তারপর তোমাদের
কাছে আমার রাসুল যাবেন এবং তোমাদের
নবুয়ত ও কিতাবের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান
করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান
আনবে এবং নিশ্চয় নিশ্চয় তাঁকে সাহায্য
করবে। আল্লাহ বলেন; তোমরা কি এসব কথার
উপর অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার
ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তখন তাঁরা
সকলেই সমস্বরে বলেছিলেন-'আমরা
অঙ্গীকার করছি'। তাহলে তোমরা পরস্পর
সাক্ষী থাক আর আমি ও তোমাদের সাথে
মহাসাক্ষী রইলাম।
(৮২)অতঃপর যে লোক(নবী) এই অঙ্গীকার
থেকে ফিরে যাবে, সেই হবে ফাসিক।"
এরই ধারাবাহিতায়, প্রত্যক নবী নিজ নিজ
যুগে আমাদের প্রিয় নবী ও আল্লাহর প্রিয়
হাবীব(দঃ)'র অাবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়ে
গেছেন এবং ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) উদযাপন
করেছেন। যা পবিত্র কুরঅানের বিভিন্ন
আয়াতে উল্লেখ আছে। সুতরাং এ কথা
প্রমাণ হলো যে, ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ)
পালন করা সুন্নাতে ইলাহী এবং নবীগণের
সম্মিলিত সুন্নাত। আর এ মিলাদুন্নবী
উদযাপন করা যে শরীয়াত সম্মত ও
সাওয়াবের কাজ তা কুরঅান মাজীদের
অসংখ্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তৎমধ্যে
কয়েকটি আয়াতের নাম্বার সূরার নাম সহ
নাতিদীর্ঘ এ প্রবন্ধে উল্লেখ করছি-
@সূরা ইউনুস,আয়াত নং:৫৮
@সূরা আলে ইমরান:৮১, ১০৩, ১৬৪
@সূরা নিসা:১৭৫
@সূরা মায়েদা:১৫, ১১৪
@সূরা তাওবা:৩৩, ১২৮
@সূরা মারয়াম:১৫, ১৬
@সূরা ক্বাসাস:৭
@সূরা সাফ্ফ:৬
@সূরা জুমু'আহ:২
@সূরা বাকারা:৪৭, ১৫২
@সূরা দোহা:১১
@সূরা অাম্বিয়া:১০৭
@সূরা বালাদ:১,২
@সূরা ইব্রাহীম:৩৪
@সূরা নাহল:৮৩, ১১৪
@সূরা ইনশিরাহ:৪
@সূরা ফাতহ:৮, ৯
@সূরা আহযাব:৫৬
## সহীহ হাদিসের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ): ঈদে মিলাদুন্নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন করা সহীহ হাদিস দ্বারা ও প্রমাণিত। এমনকি রাসুল(দঃ) নিজে ও রোজা রেখে এবং ছাগল জবাই করে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করতঃ আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেছেন। নিম্নে এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস শরীফ উল্লেখ করা হল-
@ সহীহ মুসলিমের ১ম খন্ড,৩৬৮ পৃষ্ঠা , কিতাবুস সিয়ামের ১৯৭ নং হাদীস(আল- মাকতাবাতুল ইসলামিয়া, বাংলাদেশ প্রেস অনুযায়ী) এ উল্লেখ আছে-"হযরত আবু ক্বাতাদাহ অানসারী(রঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ(দঃ) এর দরবারে আরজ করা হলো-তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখেন কেন? উত্তরে নবীজি ইরশাদ করেন: এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আমি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি এবং আমার ওপর কুরঅান অবতীর্ণ হয়। (তথ্যসূত্র: ইমাম বায়হাক্কী, অাস-সুনানুল কুবরা, মাকতাবাতু দারিল বায, মক্কা শরীফ, ১৪১৪ হিজরী, হাদীস নং:৮১৮২, খন্ড:৪র্থ, পৃষ্ঠা:২৮৬/ মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, খন্ড:৫ম, পৃষ্ঠা:২৯৭/মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, খন্ড:৪র্থ, পৃষ্ঠা:২৯৬) উল্লিখিত হাদিস শরীফ থেকে বুঝা গেল যে, রাসুলুল্লাহ(দঃ) আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে তাঁর জন্মদিন সোমবারে নিয়মিতভাবে রোজা রাখতেন। সুতরাং আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করার জন্য 'ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ)' উদযাপন করা রাসুলুল্লাহ'র সুন্নাত।
@ বুখারী শরীফের ২য় খন্ড, ৭৬৪ পৃষ্ঠা, ২১ তম পারা, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস নং-৪৯১০ (আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া,বাংলাদেশ প্রেস অনুযায়ী) এ উল্লেখ আছে-"হযরত উরওয়া ইবনে জুবাইর(র:) থেকে বর্ণিত যে, আবু লাহাবের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কাউকে (হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) স্বপ্ন দেখানো হল যে, সে খারাপ অবস্থায় আছে। স্বপ্নদ্রষ্টা তাকে বলল, তোমার কী অবস্হা? আবু লাহাব বলল, আমি অত্যন্ত আযাবের মধ্যে আছি; তবে (রাসুলুল্লাহর জন্মের ওপর খুশি হয়ে) ছুয়াইবাহকে মুক্তি দেয়ার কারণে সেদিন (সোমবার) আমাকে পান করানো হয়। (তথ্যসূত্রঃইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, মাকতাবাতু দারিল বা, মক্কা শরীফ, ১৪১৪ হিজরী, হাদিস নং:১৩৭০১, খন্ড:৭ম, পৃষ্ঠা:১৬২/ইমাম আবদুর রাজ্জাক, আল-মুছান্নাফ, আল-মাকতাবাতুল ইসলামী, বৈরুত,১৪০৩ হিজরী, হাদীস নং:১৩৯৫৫, খন্ড:৭ম, পৃষ্ঠা:৪৭৮/ইমাম ইবনু কাসীর, আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ,দারুল মারিফাহ্, বৈরুত, খন্ড:১ম, পৃষ্ঠা:২২৪) অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আব্বাস(রঃ) বলেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, সে খুব খারাপ অবস্হায় আছে। অতঃপর সে বলল: তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোন শান্তি পাইনি, তবে প্রতি সোমবার আমার শাস্তি কিছুটা কমানো হয়। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন আর আবু লাহাবের দাসী ছুয়াইবাহ রাসুলুল্লাহর জন্ম গ্রহণের সুসংবাদ আবু লাহাবকে দিলে সে তাকে (আনন্দিত হয়ে) স্বাধীন করে দিয়েছে। (তথ্যসূত্র:ইমাম ইবনু হাজর আসকালানী, ফতহুল বারী, দারু নাশরিল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ, লাহুর, পাকিস্তান, ১৪০১ হিজরী, খন্ড:৯ম, পৃষ্ঠা:১৪৫) উল্লিখিত হাদীস থেকে বুঝা গেল যে, আবু লাহাব হল প্রথম সারির কাফির, যার নিন্দায় আল্লাহ তায়ালা সূরা লাহাব অবতীর্ণ করেছেন। এতদসত্তেও সে রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর ভাতিজা হিসেবে খুশি হয়ে তার দাসী ছুয়াইবাহকে স্বাধীন করে দেয়ার কারণে কবরে তার শাস্তি প্রতি সোমবার কমানো হয়। একজন কাফেরের যদি এ প্রতিদান হয়, তাহলে একজন মুমিন রাসুলুল্লাহর আগমনে খুশি হয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করলে উত্তম প্রতিদানের পরিমাণ কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
@ সহীহ ইবনে খুযাইমার ৩য় খন্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং:২১৬১(অাল-মাকতাবাতুল ইসলামী, বৈরুত প্রেস অনুযায়ী) এ উল্লেখ আছ "হযরত আনাস(রঃ) বলেন-নবুয়াত প্রকাশের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের আক্বীকাহ করেছেন। "ইসলামের ইতিহাস ও নির্ভরযোগ্য সিরাতের কিতাবের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ(দঃ)'র দাদা রাসুলুল্লাহ জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর অাক্বীকাহ সম্পন্ন করেছেন। সাধারণতঃ আক্বীকা দুইবার হয় না; কিন্তু নবীজি আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করার জন্য দ্বিতীয়বার আক্বীকা তথা ছাগল জবাই করেছেন। সুতরাং এ কথা স্পষ্ট হল যে, রাসুল (দ:)'র জন্ম উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর সুন্নাত। তাইতো আমরা এ সুন্নাতের উপর আমল করি।
> হযরত ইবনে দাহইয়া(রঃ) আত-তানভীর ফি
মাওলিদিল বশিরিন নযীর কিতাবে উল্লেখ
করেন- "হযরত ইবনে আব্বাস(র:) থেকে বর্ণিত আছে
যে, একদিন তিনি কিছু লোক নিয়ে নিজ গৃহে
নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এর জন্মকালীন অলৌকিক
ঘটনাবলি বর্ণনা করছিলেন। ইত্যবসরে প্রিয়
নবী হাজির হলেন এবং বললেন: তোমাদের
জন্য আমার শাফা'আত আবশ্যক হয়ে গেল।
@ আদ-দুররোল মনাজ্জম নামক কিতাবে
আল্লামা আবদুল হক এলাহাবাদী উল্লেখ
করেন- "হযরত আবু দারদা(রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি
বলেন-আমি একদিন নবীজির সাথে সাহাবী
আবু আমের আনসারী(রাঃ) এর ঘরে গমন করে
দেখতে পেলাম যে, তিনি তাঁর
সন্তানাদি, অাত্মীয়-স্বজনকে একত্রিত
করে রাসুলে আকরম(দঃ)'র পবিত্র
জন্মকালীন সময়ের ঘটনাবলীর বর্ণনা
দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, আজই সেই
পবিত্র মিলাদের দিন। এ মাহফিল দেখে
নবীজি খুশি হয়ে তাঁকে সুসংবাদ দিলেন
যে, আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য রহমতের
অসংখ্য দরজা খুলে দিয়েছেনন এবং ফেরেশতারাও তোমাদের জন্য মাগফিরাত
কামনা করছেন।
###খোলাফায়ে রাশেদীনের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ): সাহাবায়ে কিরাম বিশেষতঃ খোলাফায়ে রাশেদীন(রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা অানহুম) নিজেরাই ভক্তি ও মোহাব্বত নিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) উদযাপন করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে ও তা পালন করার উৎসাহ দিয়েছেন। এ মর্মে কুরঅান ও হাদীসের অসংখ্য দলিল রয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী হায়তমী(রঃ) প্রণীত প্রসিদ্ধ কিতাব "আন-নি'মাতুল কুবরা আলাল আলম ফী মাওলিদি ওলদে আদম" এর মধ্যে কতিপয় হাদিস শরীফ পরিলক্ষিত হয়-
###খোলাফায়ে রাশেদীনের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ): সাহাবায়ে কিরাম বিশেষতঃ খোলাফায়ে রাশেদীন(রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা অানহুম) নিজেরাই ভক্তি ও মোহাব্বত নিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) উদযাপন করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে ও তা পালন করার উৎসাহ দিয়েছেন। এ মর্মে কুরঅান ও হাদীসের অসংখ্য দলিল রয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী হায়তমী(রঃ) প্রণীত প্রসিদ্ধ কিতাব "আন-নি'মাতুল কুবরা আলাল আলম ফী মাওলিদি ওলদে আদম" এর মধ্যে কতিপয় হাদিস শরীফ পরিলক্ষিত হয়-
@ ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর
ছিদ্দীক(রাঃ) বলেন: "মিলাদুন্নবী
উপলক্ষে যে কমপক্ষে এক দিরহাম খরচ করবে
সে জান্নতে আমার বন্ধু হবে।"
@ দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক(রঃ)
বলেন: "যে মিলাদুন্নবীকে সম্মান করল, সে
যেন ইসলামকে যিন্দা করল।"
@ তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান(রাঃ)
বলেন: "যে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কমপক্ষে
এক দিরহাম খরচ করবে, সে যেন বদর এবং
হুনায়নের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করল।"
@ চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ)
বলেন: "যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবীকে সম্মান
করবে এবং মিলাদ শরীফ অনুষ্ঠানের
উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সে দুনিয়া থেকে ঈমান
সহকারে মৃত্যু বরণ করবে এবং কোন হিসাব-
নিকাশ ছাড়া বেহেশতে প্রবেশ করবে।"
এভাবে সাহাবী পরবর্তী তাবেয়ী-তবয়ে
তাবেয়ী পর্যায়ক্রমে যুগে যুগে ঈদে
মিলাদুন্নবী(দঃ) পালন হয়ে আসছে।
###শেষকথা:পরিশেষে বলা যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম উপলক্ষে সকল ঈদের সেরা ঈদ-ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) উদযাপন করা শুধু বৈধ নয়; বরং অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। কুরঅান ও হাদীসের সুস্পষ্ট দলিল থাকা সত্ত্বেও যারা এটাকে বিদআত বলে তারা মুর্খ ও পথভ্রষ্ট।এদের গোমরাহী থেকে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে হেফাযত করুন। আমীন!
###শেষকথা:পরিশেষে বলা যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম উপলক্ষে সকল ঈদের সেরা ঈদ-ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) উদযাপন করা শুধু বৈধ নয়; বরং অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। কুরঅান ও হাদীসের সুস্পষ্ট দলিল থাকা সত্ত্বেও যারা এটাকে বিদআত বলে তারা মুর্খ ও পথভ্রষ্ট।এদের গোমরাহী থেকে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে হেফাযত করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment